April 13, 2026, 2:10 pm

সংবাদ শিরোনাম
রেস্টুরেন্ট, ভবন, আর অদৃশ্য টাকা: এক কর্মকর্তার সম্পদের নীরব বিস্তার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: রংপুরে ১১ দলের বিক্ষোভ দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে নতুন পোশাক বিতরণ সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ

রংপুরের ঠাকুর পাড়া এখন রাজনৈতিক মঞ্চ : বিদেহী আত্মার পরিবারের আর্তনাদ

রংপুরের ঠাকুর পাড়া এখন রাজনৈতিক মঞ্চ : বিদেহী আত্মার পরিবারের আর্তনাদ
জেলা প্রতিনিধি:

mostbet

রংপুর ঠাকুর পাড়ায় নিহত হাবিবুর রহমান ও তার পরিবার

রংপুরের সলেয়াশা এলাকায় রাসূল (সা:) এর নামে ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে জনতা ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ১০টি বাড়ি ভাঙ্গচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে ৫ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয় কমপক্ষে ৪০ জন এবং নিহত হয় ১ জন। ঘটনার দিন আটক করা হয় ৫ জনকে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রংপুরের সলেয়াশা বাজারের পাশে ঠাকুর পাড়ার টিটু রায় রাসূল (সা:) এর নামে ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট দেয়। বিষয়টি এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের মনে আঘাত হানে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে গত ২৯/১০/২০১৭ তারিখে খলেয়া ইউনিয়নের লাল চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তারের পুত্র আলমগীর হোসেন এ ব্যাপারে টিটু রায়কে অভিযুক্ত করে গংগাচড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গংগাচড়া থানার ওসি জিন্নাত আলী’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্ত চলছিল এবং আসামিকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আসামীকে গ্রেফতারের আগেই সংঘর্ষ বেঁধে ঘটনাটি ঘটে।
ওই ঘটনার প্রতিবাদে বিগত ১০/১১/২০১৭ তারিখে ধর্মপ্রাণ বিভিন্ন স্তরের মুসলিম জনতা টিটু রায়ের শাস্তির দাবিতে বাদ জুম্মা সলেয়াশা বাজারে বিক্ষোভ ও সমাবেশের ডাক দেয়। জুম্মার নামাজের পর আনুমানিক ১৫-২০ হাজার মুসল্লী সলেয়াশা বাজারে জমায়েত হয় এবং মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় মহা সড়কের দু’পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বললে উভয় পক্ষে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় ৫ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। পুলিশের টিয়ার সেলে আহত হাবিবুর রহমান (২৫) নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়, তাকে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। নিহত হাবিবুর রহমানের বাড়ি গংগাচড়া উপজেলার লালচাঁদপুর মুচাপাড়ায়। এদিকে বিক্ষুব্ধ জনতা ১০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এলাকাবাসী শাহ মোহাম্মদ মাসুদ রানা, আলিফ মিয়া ও রায়হান কবির জানান, নবীজী সম্পর্কে কটুক্তিকারীর শাস্তির দাবীতে  আমরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ঘটনার পর টিটু রায়কে পুলিশ নীলফামারী জেলা থেকে গ্রেফতার করে গত ১৫/১১/২০১৭ তারিখে। আসামীকে বিজ্ঞ গংগাচড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায় ১৬৪ ধারায় টিটু রায় ম্যাজিস্ট্রেট-এর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। গত ২১/১১/২০১৭ তারিখে সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে ঠাকুর পাড়ার ওহেদুল মিয়া এবং টিটু রায়ের ভাই বিপুল রায়ের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, টিটু রায় কোন এক সময় ভ্যানচালক ছিল এবং পরবর্তীতে সে পাগলাপীর বাজারে হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারী করে এবং ডাক্তারী করার সময় টিটু রায় বিভিন্ন মানুষের কাছে আনুমানিক ৭ লক্ষাধিক টাকা ধার করে। পরবর্তীতে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ঢাকায় পালিয়ে যায়। টিটু রায়ের ভাই বিপুল রায় জানায় যে, টিটু রায়ের ২ জন স্ত্রী। ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় বড় স্ত্রী আর ২ মেয়েকে বাড়িতে রেখে যায়। ছোট মেয়ে শ্রীমতি সুচিত্রার সাথে পাশের গ্রামের কচু পাড়ার মুসলিম ছেলে সাহাবুলের সাথে তার বিয়ে হয়। টিটু রায়ের ছোট মেয়ে সুচিত্রার সাথে মুসলমান ছেলের বিয়ে হওয়ায় টিটু রায়ের ক্ষোভ থেকে যায়। এলাকাবাসী জানান এই ক্ষোভের কারণে টিটু রায় এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করেন।
এদিকে ঘটনার পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মন্ত্রী এবং সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এবং রংপুর জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল দফায় দফায় পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক অনুদান দিলেও ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নিহত পার্শ্ববর্তী মুচা পাড়ার হাবিবুর রহমানের পরিবারকে কোন আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হয়নি, এমন কি কেউ সমবেদনা জানায়নি। নিহত ব্যক্তির পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উক্ত পরিবারের মধ্যে হাবিবুর রহমান একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল। রংপুর শহরের সেন্ট্রাল ক্লিনিকের সামনে চায়ের দোকানে কাজ করে স্ত্রী ও ২ সন্তান এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ করে বলে তার পরিবার ও এলাকাবাসী জানান। বর্তমানে তার বাড়িতে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। স্বামী হারা স্ত্রীর আত্মনাদ ও পিতা-মাতার সন্তান হারার বুক ফাটা কান্না বাবা হারা দুই শিশু, আজও জানেনা তাদের বাবা আর কোনদিন ফিরে আসবেনা।
অপর দিকে ঠাকুর পাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, তারা এখনও ভীত সন্ত্রস্ত রয়েছে। তারা প্রশাসনিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য সরকারের প্রতি নিবেদন করেন।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর